top of page

বিদায় সুন্দরবন!

By Farzana Afroz

 

সকালবেলা নাস্তা কমপ্লিট করেই, রুমে চলে গেলাম সবকিছু প্যাকিং করার জন্য। আজকে সুন্দরবনে অবস্থান এর শেষ দিন। সকাল ৯টায় একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য লবিতে উঠেই দেখি দুপাশে মানুষ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখছে। আমরা নাকি এখন হিরণ পয়েন্টে অবস্থান করছি। জাহাজ দিয়ে এই দু'পাশের চিত্র সত্যি মনমুগ্ধকর।



দুপাশে চিত্রা হরিণের মনে হয় এক মেলা বসেছে। যতদূর চোখ যায় হরিণ এবং হরিণ শাবকদের অপূর্ব খেলাধুলা সত্যি হৃদয়টাকে এক অন্য ধরনের প্রশান্তি দিচ্ছিল

আরেকটু উপরে উঠতেই বকুল ভাই খুব দৃঢ় চিত্রগলায় আমাকে বলল," জানো আমি মাত্র একটা বাঘ দেখেছি। সাথে আমাদের নাসিমা ভাবিও সঙ্গ দিয়ে বললেন "সত্যি হেব্বি মোটা তাজা বাঘ!"

কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো যা পুরাই মিস করে ফেললাম , শেষ বেলায় মনে অশান্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরব¡!!! সত্যিই বাকিটা সময় অশান্তিতে কাটবে!


হালকা-পাতলা রিফ্রেশমেন্টের হারবারিয়া পয়েন্টের উদ্দেশ্যে আমাদের ট্রলারটা ছাড়লো।

প্রথমে ট্রলারটা সরু ক্যানেল গুলো দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হাড়বাড়িয়া অফিস থেকে একটু সামনে যেতেই হঠাৎ করে সবাই লক্ষ্য করলাম, বড় আকারের একটি কুমির খুব সুন্দর স্লাইডিং দিয়ে পানিতে নেমে পড়ল।এই দৃশ্যটা চোখে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছিল চোখের সামনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চলছে!


পানিতে নেমে কিছুক্ষণ পর আমাদের ট্রলারের চারিপাশে রাউন্ড দিয়েছ তার মাথাটা উঁচু করে দিল, ঠিক ঐ পাশে বসেছিল সূচক এবং জালাল ভাই! অল্পের জন্য বেঁচে গেল দুজন। এই রোমাঞ্চকর দৃশ্য শেষ হতে না হতেই ট্রলার ক্যানেল বরাবর চলা শুরু করলো। চারিদিকে সাদা বক, বানর, ছোট ছোট কুমির ছানা দেখতে শুরু ক্যানেল টা দিয়ে যাচ্ছিলাম।


হঠাৎ করেই ডান পাশে দেখলাম একেবারেই বানরের বাচ্চার সাইজের ছোট একটা প্রাণী, খুব সুন্দর করে রাজকীয় ভাবে হেলেদুলে বনের ভিতরে ঢুকছে।ট্রলারের মধ্যে এক তরফা তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে গেল, কেউ বলছে বানরের বাচ্চা, কেউ বলছে বাঘের বাচ্চা।

সকলের যুক্তি তর্কের অবসান ঘটিয়ে ফরেস্ট অফিসার ঘোষণা দিলেন এটা বাঘের বাচ্চা ই ছিল!


ট্রলার ঘুরিয়ে হাড়বাড়িয়া অফিসের দিকে চলে গেলাম। একটু এগুতেই শাপলার ঝিল চোখে পড়ল। কি মনোরম সেই দৃশ্য।আবারো চোখের সামনে কাঠেরপুল। তবে এবারের কাঠেরপুল টা প্রচুর পরিমাণে নড়বড়ে এবং এপাশ-ওপাশ প্রচুর ভাঙ্গা।



সবাই খুব হাসিখুশি ভাবে কাঠেরপুল টা পারছিলাম হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই ফরেস্ট অফিসার দেখালেন, এই কাঠেরপুল নিচ দিয়ে কিছুক্ষণ আগেই মা বাঘ বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তা পার হয়েছে।


সাথে সাথে বাঁশি বাজানোর শুরু হয়ে গেল। এক মুহূর্ত মনে হয় আমাদের দাঁড়াতে দিবে না ঠিক এরকম একটা ভাব। ছবি তুলব সেটাও সম্ভব হলো না।এলাকায় বাঘের উপদ্রব পাওয়া গিয়েছে, এই জন্য খুব সতর্কতার সহিত তাড়াতাড়ি ট্রলারে করে জাহাজে চলে যেতে হবে।


দুপুরের খাবারটা সেরেই, রাতের ট্রেনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলাম। আলহামদুলিল্লাহ সব কিছু মিলিয়ে জার্নিটা অসাধারণ ছিল.............

সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। বাঘ দেখা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।তবে ভাগ্য যাতে আমাদের ভুলের জন্য দুর্ভাগ্যে পরিনত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।


bottom of page